জকিগঞ্জে দুই সন্তানের জননী প্রেমিকের সাথে পালানোর পর ভারতে আটক

I4জকিগঞ্জ সংবাদদাতা: বাংলাদেশের সিলেট জেলার জকিগঞ্জ পৌরসভার মধুদত্ত খালপার গ্রামের দয়াময় বিশ্বাসের স্ত্রী অর্চনা বিশ্বাস দু’পুত্র সন্তানকে নিয়ে একই গ্রামের যুবক বাসুদেব বিশ্বাসের সাথে দালালের মাধ্যমে ভারতে পাড়ি জমান প্রেমিক-প্রেমিকা। ২০১৪ সালের ৪জুলাই বুধবার ভারতের করিমগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফ তাদের আটক করে। এবং ভারতীয় মুদ্রায় ১লক্ষ ৩২হাজার ৩শ ৫০রুপি ও স্বর্ণালংকার, কাপড়চোপড় উদ্ধার করা হয়। আটকের পর ভারতের করিমগঞ্জ বার্তায় বিস্তারীত উঠে আসে।

জানা যায়, একই বছরের ৩জুলাই বাড়ি থেকে দু’ পুত্র গোবিন্দ বিশ্বাস (৬), গোপাল বিশ্বাস (৪)কে নিয়ে অর্চনা বিশ্বাস (৩০), প্রেমিক যুবক বাসুদেবকে নিয়ে পালিয়ে যায়। ভারতের করিমগঞ্জের টিলাবাজার এলাকায় দালাল আব্দুল জলিলের বাড়িতে প্রথমে যায় তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিএসএফ লক্ষীবাজার এলাকা থেকে ম্যাজিক গাড়ি তল্লাশি চালিয়ে দালাল আব্দুল জলিলসহ তাদের আটক করে। শহরের স্টিমারঘাট রোডে বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। কয়েক ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদে মাত্র দু’হাজার টাকার বিনিময়ে দালালের মাধ্যমে ভারতে প্রবেশ করে জানায় তারা্।

জকিগঞ্জ থানার এ এস আই রাপ্রু মার্মা জানান, যথা শিগগির তদন্ত রিপোর্ট তাদের (ভারত) কাছে হস্তান্থর করবো্। তবে দয়াময় বিম্বাস দু’টি সন্তান দাবি করলেও প্রতিবেদনে গোবিন্দ বিশ্বাস নামে একটি সন্তানের নাম রয়েছে। কিন্তু অপর সন্তান গোপাল বিশ্বাসের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। বর্তমানে তারা শিলচর ডিটেনশন ক্যাম্প হাজতে বন্দী রয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর পর তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে তাদের মুক্তির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করবে ভারত।

ভারতের করিমগঞ্জের শিলচর ডিটেনশন ক্যাম্প হতে বাংলাদেশের জকিগঞ্জ থানায় একটি তদন্ত কপি আসে। পুলিশ তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর ভিত্তিতে তাদের দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও্ আটকের ৬মাস পর জকিগঞ্জ থানাকে ক্লিয়ারেন্স পাঠানোর জন্য অনুরোধ করে ভারত। ফলে তদন্ত রিপোর্ট না দেয়াতে বিষয়টির আশু সমাধানের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

অর্চনার মূল স্বামী দয়াময় বিশ্বাস তার দু:খের কথা প্রকাশ করেন। বলেছেন, যে দু’সন্তান নিয়ে সুখের সংসার ছিল আমার। কিন্তু সে সুখের সংসার ভেঙ্গে দেয় বাসুদেব। আমার স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক সৃষ্টি করে ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও কাপড় চোপড় নিয়ে পালিয়ে যায় সে। রিকসা চালিয়ে ও কাঠের স’মিলে শ্রমিকের কষ্টার্জিত জমানো প্রায় দু’লক্ষ টাকাসহ মালামাল নিয়ে যায়। এ ঘটনার পর আমি চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছি। আমি চাই আমার স্ত্রী, দু’সন্তান আমার কাছে ফিরে আসুক। দয়াময় বিশ্বাস ভারত-বাংলাদেশের প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open