জুড়ীতে সাগরনাল চা-বাগান কর্তৃক বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ

JURI  PIC-1কমলগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার সাগরনাল চা-বাগান কর্তৃক সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ, হ্যাচারী ও ফিশারীর নামে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, বন বিভাগের ভূমি জবরদখল ও স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন ভূমি জবর দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্র জানায়, সরকারের ১১৯ একর ভূমি বাগানের দখলে থাকা সত্ত্বেও তথ্য গোপন করে লিজ চুক্তির ১৪ নম্বর শর্ত ভঙ্গ করে এবং সম্পূরক ইজারা দলিল না করে ইজারামূল্য আত্মসাৎ করছে। এতে সরকারের প্রায় ৫ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেয়া হচ্ছে। এবিষয়ে জুড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ.এস.এম ইবনুল হাসান ইভেন জানান, সাগরনাল চা-বাগানের ভূমি নিয়ে বন বিভাগ ও ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন সমস্যা JURI  PIC-2রয়েছে। সাগরনাল চা-বাগানের সার্বিক তথ্য ও প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি চিঠি এসেছে। এদিকে, চা বাগানের ক্রয়কৃত আমজুর মৌজায় ১০১.১৪ একর ভূমিতে উৎপাদনশীল চা-বাগান থাকা সত্ত্বেও এ ভুমিকে ‘সাগরনাল হ্যাচারী এন্ড ফিসারী লি:’ নাম দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে পৃথকভাবে বিরাট অংকের টাকা ঋন নেয়া হয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হ্যাচারী ও ফিসারী সাগরনাল টি.ই মৌজার প্রায় ৮ একর জমির উপর আছে। অন্যদিকে, আমজুর মৌজায় কোন হ্যাচারী বা ফিসারী দেখা যায়নি। এবিষয়ে কৃষি ব্যাংক জুড়ী শাখার ব্যবস্থাপক বেলাল আহমেদ চৌধুরী জানান, সাগরনাল হ্যাচারী এন্ড ফিসারী লি: এর নামে কৃষি ব্যাংক থেকে ঋন নেয়ার বিষয়টি আমাদের হেড অফিস জানেন। সূত্র আরও জানায়, সাগরনাল টি.ই মৌজার ১, ৪, ৭, ৮, ৯, ১০, ২৩৩ ও ৪৪৪ নম্বর দাগের উত্তর অংশে বন বিভাগের প্রায় ১০০ একর ভূমি, ‘ঘাইলাকোনা আনডর’ এর স্থানে ফিসারী লেবার লাইন ও চা-বাগান করে আরও প্রায় ১০০ একর ভূমি এবং আমজুর মৌজার পৃথক ১৫ টি দাগে উত্তর ও পূর্ব অংশে প্রায় ৬১ একর ভূমি চা বাগান কর্তৃপক্ষ জবরদখল করেছে। অপরদিকে হাড়ারগজ রিজার্ভের প্রায় ৩ শত ১১ একর ভূমি জবরদখল করে রেখেছে তারা। এবিষয়ে জুড়ী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো: কামরুল মোজাহিদ জানান, সাগরনাল চা-বাগানের দখলে বন বিভাগের অনেক জমি রয়েছে। গত মাসে আমজুর মৌজা থেকে ১৪ একর ভূমি আমরা দখল মুক্ত করেছি। পর্যায়ক্রমে বন বিভাগের সকল ভূমি দখল মুক্ত করা হবে। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, লিজ ডিডের ৯ ও ১০ নং শর্তানুশারে চা-বাগানের কোন গাছ কর্তন বা চিরাই করতে হলে টি বোর্ড এর পূর্বানুমতি নেয়ার কথা থাকলেও তা নানিয়ে বাগান ব্যবস্থাপক স্থানীয় চেয়ারম্যান কে ম্যানেজ করে বাগানের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কর্তন করে চিরাই করার নামে বিক্রয় করছে। এই সব আত্মসাৎ, জবরদখল, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে মোবাইল ফোনে বক্তব্য জানতে চাইলে সাগরনাল চা-বাগানের ব্যবস্থাপক সুজিৎ কুমার সাহার মোবাইলে (০১৭১১-২৩৬১৬২) একাধিক বার কল হলেও তিনি রিসিভ করেনি।

Sharing is caring!

Loading...
Open