সত্যিই কি সিলেট সীমান্তে ভারতীয় বাঁধ খুলা হবে?

1ডেস্ক রিপোর্ট :: সিলেট অঞ্চলে ক’দিন ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। নামছে পাহাড়ি ঢলও। ফলে এ অঞ্চলের ছোট-বড় নদীগুলোর পানি বাড়ছে। বিভিন্ন হাওরেও জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া কোনো হাওরে ঢলের পানি প্রবেশ করে তলিয়ে যাচ্ছে বোরো ফসল।

তবে আবহাওয়ার এমন পূর্বাভাস আগেভাগেই অনুধাবন করতে সক্ষম হয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই আবহাওয়া বিভাগের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ক’দিন আগে থেকেই সিলেট অঞ্চলের হাওরগুলোতে থাকা পাকা ধান কাটার জন্য প্রচারণা চালনো হয়।

রিকসাসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহনের সাহায্যে গ্রামাঞ্চলে এব্যাপারে মাইকিং করার পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমেও আগেভাগে ধান কাটার জন্য কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করা হয়। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ জেলার সদর, বিশম্ভরপুর, তাহিরপুর, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, ছাতক, দোয়ারাবাজার, জামালগঞ্জ, জগন্নাথপুর, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কুলাউড়া, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলাসহ প্রায় বিভিন্ন এলাকায় চলতি ভারি বর্ষণের কারণে আগাম বন্যার আশঙ্কা করে ধান কেটে ঘরে তোলার ব্যাপারে মাইকিং করা হয়েছে।

আর এ বিষয়টি নিয়ে একটি কুচক্রি মহল সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার প্রচেষ্টা চালায়। তারা চারদিকে গুজব ছড়ায়- ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যদিয়ে বয়ে চলা একাধিক নদীর বাঁধ (ভারত অংশে) খুলে দেওয়া হবে। আগামি ২০ এপ্রিলের মধ্যে ভারত এ কাজটি করবে বলে গুজব ছড়ানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে বলা হচ্ছে- ভারত বাঁধ খোলে দিলে সিলেট অঞ্চলের ভয়াবহ বন্যা দেখা দেবে। ফলে তলিয়ে যাবে জমির পাকা ফসল, ঘরবাড়ি।

বিভ্রান্তকারীদের এমন গুজবে সচেতন লোকজন কান না দিলেও সহজ-সরল গ্রামের সাধারণ মানুষ বিষয়টিকে ‘গুরুত্বের’ সাথে নিচ্ছেন। তাই তাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম আতঙ্ক। অনেকে মুঠোফোনের মাধ্যমে স্বজনদের সাথে এ বিষয়ে কথা বলছেন। কেউ কেউ আবার  বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমেও যোগাযোগ করছেন বিষয়টি নিয়ে।

Sharing is caring!

Loading...
Open