রাজধানীতে ফের মায়ের হাতে শিশুপুত্র খুন

101988_Kun-Faiডেস্ক রিপোর্টঃ পারিবারিক কলহের জের ধরে ফের রাজধানীতে এক মা তার একবছরের শিশুপুত্রকে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর উত্তরখানের মান্দ্বারপাড়া সোসাইটির একটি বাসায় এই ঘটনা ঘটে। উত্তরখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সিরাজুল ইসলাম রাত সোয়া একটার দিকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘ আজ মধ্যরাতে নেহাল সাদিক নামের ওই শিশুটিকে তার মা মুক্তি ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। শিশুটির বাবার নাম সাজ্জাদ হোসেন। তিনি একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।’
শিশুটির মাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হচ্ছে বলেও ওসি জানান। তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, কয়েক বছর আগে শিশুটির বাবা-মায়ের বিয়ে হয়। তবে দু’জনেরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়ে প্রায় প্রতিদিনই ঝগড়া হতো। সোমবার সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়। সকালে শিশুটির বাবা সাজ্জাদ কাজে চলে যান। রাতে তিনি বাসায় ফিরে দেখেন শিশু নেহালকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। শিশুটির মাও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
ওসি জানান, খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। শিশুটির মা তাকে হত্যা করেছে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
এর আগে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে রামপুরার বনশ্রীর এলাকার ‘বি’ ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৯ নম্বর বাড়িতে এক সঙ্গে নারকীয় হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় ১৪ বছর বয়সী বোন নুসরাত আমান অরণী ও ৬ বছর বয়সী তার ছোট ভাই আলভী আমান। পরিবার খাবারে বিষক্রিয়ায় দুই শিশুর মৃত্যুর কথা বললেও ময়নাতদন্তে হত্যার আলামত পাওয়ার পর এ ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এরপর র‌্যাব-পুলিশ ঘটনার তদন্তে মাঠে নামে।
ঘটনার তিনদিন পর দুই সন্তানকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা র‌্যাবের কাছে স্বীকার করেন নিহত শিশুদের গর্ভধারিণী মা মাহফুজা মালেক জেসমিন। সন্তানদের ভবিষ্যত নিয়ে দুশ্চিন্তার ও অস্থিরতা থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানোর কথা বলেন মা জেসমিন।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে র‌্যাবের কাছে মায়ের স্বীকারোক্তি দেওয়ার পর বাবা আমানুল্লাহ একমাত্র জেসমিনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মা এ বিষয়ে আদালতেও স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

Sharing is caring!

Loading...
Open