ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের অর্থ ও কর ফাঁকির বিপুল নথি ফাঁস

19567ডেস্ক রিপোর্টঃ পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের এক কোটি দশ লাখ গোপন নথি ফাঁস হয়ে যাবার পর আলোড়ন তৈরি হয়েছে।

নথিগুলো থেকে জানা যাচ্ছে যে, পৃথিবীর নানান দেশের রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে ধনী ও ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা বিভিন্ন কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে নিজেদের সম্পদকে গোপন করে রাখছেন।

ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে দেখা যাচ্ছে, অর্থ পাচার করতে, ট্যাক্স ফাঁকি দিতে এবং বিভিন্ন রকম নিষেধাজ্ঞাকে ফাঁকি দিতে এই আইনি প্রতিষ্ঠানটি তার মক্কেলদেরকে পরামর্শ দিয়ে আসছে।

তবে, প্রতিষ্ঠানটি বলছে, কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই তারা গত ৪০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছে।

ধনিক ও ক্ষমতাবানেরা কত কৌশলে কর ফাঁকি দিয়ে নিজেদের সম্পদ লোকচক্ষুর অন্তরালে লুকিয়ে রাখে সেই কথা প্রকাশ্যে এসেছে এই ব্যাপক সংখ্যক নথি ফাঁসের ঘটনায়।

গোপনীয়তা রক্ষাকারী হিসেবে পৃথিবীর অন্যতম প্রতিষ্ঠান মোওস্যাক ফনসেকা, যেটি পানামার একটি আইনি প্রতিষ্ঠান, সেখান থেকেই সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে ১১ মিলিয়ন নথিপত্র।

এই নথিগুলোই প্রমাণ দিচ্ছে যে মোওস্যাক ফনসেকা তার মক্কেলদেরকে অর্থ পাচার ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে আইনি পরামর্শ দিয়েছে।

তবে, প্রতিষ্ঠানটি বলছে গত ৪০ বছর ধরে কোনো প্রকারের কোনো সমস্যা বা সংকট বা নিন্দা ছাড়াই তারা এটি পরিচালনা করে আসছেন।

ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস বা আইসিআইজে-এর ডিরেক্টর, জেরার্ড রাইল বলেছেন, গত ৪০ বছর ধরে মোওস্যাক ফনসেকা তার দৈনন্দিন যে সকল কাজকর্ম করেছে সেগুলোর নথি রয়েছে এই ফাঁস হওয়া ডকুমেন্টগুলোয়।

ফাঁস হওয়া গোপনীয় এই নথি-পত্রগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে, পৃথিবীর নানান দেশের মোট ৭২ জন বর্তমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান তাদের নিজেদের দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করছেন।

এরমধ্যে রয়েছেন মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক, লিবিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান মুয়াম্মার গাদ্দাফী এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।

এছাড়া এক ব্যাংকের মাধ্যমে অন্তত প্রায় বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচারের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগীও রয়েছেন। খবর: বিবিসি বাংলা।

Sharing is caring!

Loading...
Open